
পুলিশে জনবল বাড়ানোর আগে আবাসন, যানবাহন ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত না করায় বাহিনীর কার্যক্রমে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও লজিস্টিক সহায়তা ছাড়া সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি একদিকে পুলিশ সদস্যদের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের চর্চাকেও কঠিন করে তুলছে।বিশেষজ্ঞদের দাবি, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ কার্যক্রমকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট চিন্তা থেকেই প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ছাড়াই পুলিশে নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, জনগণকে উন্নত পুলিশি সেবা দিতে হলে প্রথমেই পুলিশ সদস্যদের জন্য স্বাস্থ্যকর আবাসনসহ মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না থাকলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুলিশের কর্মক্ষমতার ওপর পড়ে।তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে শুধু জনবল বাড়ালে বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। এছাড়া অনেক থানায় যানবাহনের সংকট থাকায় নিয়মিত ও কার্যকর টহল কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যা অপরাধীদের সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দেয়।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তড়িঘড়ি করে নতুন থানা বা পুলিশ ফাঁড়ি চালু না করে প্রয়োজনীয় জনবল, আবাসন, যানবাহন এবং অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার পর তা চালু করা হলে পুলিশি সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং রাষ্ট্র ও জনগণ উভয়ই উপকৃত হবে।