
দেশে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা আবারও সরকারের হাতে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক ও বিচারাঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি চলতি অধিবেশনে অনুমোদন পাচ্ছে না। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা সম্পর্কিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে বিচারপতি নিয়োগে পূর্বের ব্যবস্থায়—অর্থাৎ সরকারের নিয়ন্ত্রণে—ফিরে যাওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে।প্রতিবেদনটি সংসদে উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা ছিলেন, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তবে ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন জামায়াতের সদস্যরা।সংবিধান অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে তা বাতিল হয়ে যায়। সে হিসেবে আগামী ১০ এপ্রিলের পর এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাবে।গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো:বিচারপতি নিয়োগে সরকারের ভূমিকা আবার বাড়ছেসুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা সম্পর্কিত সংস্কার পিছিয়ে যাচ্ছেঅন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগ হোঁচট খেতে পারেবিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। সামনে এ ইস্যুতে সংসদ ও রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়তে পারে।