
মহান মুক্তিযুদ্ধের হৃদয়বিদারক স্মৃতিকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে আশুগঞ্জ উপজেলার কামাউরা এলাকায় নির্মিত ‘মৈত্রীস্তম্ভ’। দেয়ালজুড়ে খোদাই করা হয়েছে ১৯৭১ সালের বিভিন্ন দৃশ্য—যুদ্ধের ভয়াবহতা, শরণার্থীদের ভারতমুখী যাত্রা, অসহায় মানুষের কষ্ট আর ১৬ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণের মুহূর্ত।বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ-এর সময়কার নানা চিত্র এখানে ফুটে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্যও, যা বাংলাদেশের বিজয়ের চূড়ান্ত মুহূর্তকে স্মরণ করিয়ে দেয়।মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে। তবে এখনো এটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।এদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক-এর পাশের ধুলাবালু, চাতালকলের কালো ধোঁয়া ও তুষে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এর পরিবেশ ও সৌন্দর্য। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনাটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ উদ্বোধনের প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি থেমে যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা উন্নতির দিকে যাওয়ায় দ্রুত এটি উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি সরকারপ্রধানের সামনে উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, “স্থাপনাটি পড়ে থাকলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে, তাই এটি দ্রুত চালু করা জরুরি।”২০১৭ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়, যার প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১৬ কোটি টাকা। পরে সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ সম্পন্ন হয়। জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।