
ইরান এর সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে এখনো সংকট তৈরি না হলেও সেই গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তি। এসবের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত | ঢাকা ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের উত্তাপে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তার ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশেও। তবে দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে ছড়ানো ‘তেল সংকটের’ গুজবে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক দূর করতে এবং মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে আজ রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ও ফিলিং স্টেশন আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।পরিদর্শন ও বর্তমান পরিস্থিতিশুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে যানবাহন, বিশেষ করে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে যে, সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী পাম্প মালিক ও সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। পাম্পগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যপরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেন:”বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাজারে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে কোনো সংকট নেই। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কিছু অসাধু চক্র গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করছে। যারা অহেতুক দীর্ঘ লাইন ধরে তেল সংগ্রহ করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি—আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।”মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস ও পদক্ষেপজ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে:পর্যাপ্ত মজুদ: বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) এর কাছে আগামী কয়েকমাসের জন্য পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে।সরবরাহ তদারকি: কোনো পাম্প কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না, তা তদারকি করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।গুজবে কান না দেওয়া: সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিত্তিহীন খবরে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী জানান, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করবে বা গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিকেলের পর থেকে তদারকি বাড়ায় পাম্পগুলোর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।