
কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় একটি ডাকাতি মামলার তদন্ত নিয়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দি থাকা এক ব্যক্তিকে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত দেখিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আরকানুল ইসলাম। বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর তদন্ত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মামলাটি পুনরায় তদন্তের আদেশ দিয়েছেন আদালত।ঘটনার বিবরণ:অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আবুল বশর, তিনি চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের হাফানিয়াকাটা মোরারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আদালত ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ একটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে যান এবং টানা তিন মাস চার দিন সেখানে বন্দি ছিলেন।তবে তার কারাবাস চলাকালীনই গত ২৪ মে চকরিয়া থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে দাবি করা হয় যে, ঘটনার সময় আবুল বশর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আরকানুল ইসলাম তাকে ডাকাতি ঘটনায় সম্পৃক্ত দেখিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।আদালতের পর্যবেক্ষণ:চার্জশিট দাখিলের সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইলিয়াছ আরিফ বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। এরপর চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ করেন এবং মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মঈন উদ্দিন বলেন, কারাগারে থাকা ব্যক্তিকে নতুন মামলায় আসামি করার আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা জরুরি, অন্যথায় তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য:আবুল বশরের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে নতুন মামলায় জড়ানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।পুলিশের প্রতিক্রিয়া:এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরকানুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাশ জানান, জেল হাজতে থাকা কোনো ব্যক্তির বাইরে গিয়ে অপরাধে জড়িত হওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।