
রাজধানীর নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, চিহ্নিত অপরাধীদের সুরক্ষা প্রদান এবং ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১৭টিরও বেশি মামলার আসামি ও কুখ্যাত প্রতারক শামসুজ্জামান ওরফে ‘র্যাব জামানকে’ বিপুল অর্থের বিনিময়ে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।### **টাকার বিনিময়ে অপরাধীকে ‘অব্যাহতি’**অভিযোগ উঠেছে, শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৪২০, ৪০৬ এবং ৫০৬ ধারায় দায়ের করা তিনটি সুনির্দিষ্ট মামলায় ভিডিও ফুটেজসহ অকাট্য প্রমাণ থাকার পরও ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন খান রহস্যজনক কারণে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, মোটা অঙ্কের (প্রায় ৫ লক্ষ টাকা) বিনিময়ে আনোয়ার এই চিহ্নিত প্রতারককে আইনি গ্যাঁড়াকল থেকে মুক্ত করেছেন।ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, *”সরাসরি সিসিটিভি ফুটেজ থাকার পরও পুলিশ কীভাবে একজন চিহ্নিত প্রতারককে নির্দোষ বলে রিপোর্ট দেয়, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এর বিচার চেয়ে আদালতে সিএমএম মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”*—### **বরিশালের ‘পোষ্যপুত্র’ থেকে ডিএমপির ‘ত্রাস’**আনোয়ার হোসেন খানের (বিপি: ৭৮০৪০৯৯১৫০) অতীত ঘেঁটে জানা যায়, তিনি বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ এবং তথাকথিত ‘পোষ্যপুত্র’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই তিনি লটারির মাধ্যমে বরিশাল থেকে ঢাকায় বদলি হন এবং ডিএমপির বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক লুটতরাজ ও অপকর্মে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।### **প্রতারক জামান ও তার সিন্ডিকেট**শামসুজ্জামান ওরফে জামান বিগত সরকারের আমলে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ, বিপ্লব কুমার সরকার এবং ডিবি হারুনের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলো হলো:* আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো।* পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পরিচালনা।* ভুয়া প্রকল্পের নাম দিয়ে বড় অংকের রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থ আত্মসাৎ।* প্রতারণার মাধ্যমে বর্তমানে বিলাসবহুল জীবন যাপন।—### **ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ**থানায় কর্মরত ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন খান অফিসে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন। তিনি প্রায়ই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে কটূক্তি করেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও নেতিবাচক মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে দাবি করে তিনি প্রায়ই দম্ভোক্তি করেন যে, *”ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমার বন্ধু, কেউ আমার কিছু করতে পারবে না।”*### **আইনগত ব্যবস্থার দাবি**বিগত সরকারের আমলে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর কারিগর হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আনোয়ার হোসেন খানের মতো কর্মকর্তাদের কারণে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুলিশ সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।**সম্পাদকের নোট:** *ওসি আনোয়ার হোসেন খানের অপকর্মের ভিডিও ফুটেজ ও পরবর্তী প্রমাণাদি নিয়ে আসছে আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদন: **পর্ব ৪**। সাথে থাকুন।*—