
দেশের ব্যাংক খাতে আর্থিক অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একের পর এক সাবেক ব্যাংক এমডি কারাগারে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাংক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বর্তমানে অন্তত চারজন সাবেক ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কারাগারে রয়েছেন।এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক ব্যাংকার আব্দুছ ছালাম আজাদ, যিনি ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে টানা ছয় বছর একটি ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের মার্চে জামিন চাইতে গেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তার বিরুদ্ধে এননটেক্স গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।একইভাবে কারাগারে রয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত Sonali Bank ও Rupali Bank-এর সাবেক এমডি ওবায়েদ উল্লাহ মাসুদ। গ্রেফতারের আগে তিনি Islami Bank Bangladesh PLC-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে Agrani Bank-এর ১৮৯ কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে, যা এক যুগেরও বেশি আগে বিতরণ করা হয়েছিল।প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে আছেন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি মনিরুল মওলা। ২০২৫ সালের ২২ জুন দুদকের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৯২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাতে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।অন্যদিকে, EXIM Bank-এর সাবেক এমডি ফিরোজ হোসেন ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের ৫ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৮৫৭ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন, আত্মসাৎ ও পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ এনেছে দুদক।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নতুন কিছু নয়। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বহু ব্যাংকারের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের নজির তৈরি হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আর্থিক সংকট সৃষ্টি কিংবা অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দায়ে অন্তত ৪৭ জন ব্যাংকার বিভিন্ন সময়ে সাজা পেয়েছেন।দেশের ব্যাংক খাতে চলমান এই ধরপাকড় ও তদন্ত কার্যক্রমে অনেক বর্তমান ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।