
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গাড়ি ব্যবহারকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই আতঙ্কের মূল কারণ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে যানবাহন রিকুইজিশন। অনেক গাড়ির মালিকই আশঙ্কা করছেন—নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো সময় তাদের গাড়ি পুলিশ নিয়ে নিতে পারে।তবে আইন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বিষয়ে প্রচলিত অনেক ধারণাই সঠিক নয়।রিকুইজিশন মানেই শুধু মাইক্রোবাস নয়অনেকেই মনে করেন, শুধু MPV বা মাইক্রোবাস ক্যাটাগরির গাড়ি হলেই পুলিশ রিকুইজিশন করে। বাস্তবে এই ধারণা ভুল। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো ক্যাটাগরির গাড়ির মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়, বরং কিছু শর্ত ও নীতিমালার ওপর নির্ভর করে।কোন আইনে এই ক্ষমতা পেয়েছে ডিএমপি?ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অধ্যাদেশ–১৯৭৬ এর ধারা ১০৩(এ) অনুযায়ী,জনস্বার্থে পুলিশ কমিশনারকে যানবাহন রিকুইজিশনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।এই আইনের আওতায়—পুলিশ কমিশনার লিখিত আদেশের মাধ্যমেশুধুমাত্র জনস্বার্থে ব্যবহারের শর্তেগাড়ি রিকুইজিশন করতে পারেন।হাইকোর্ট নির্ধারিত যেসব নীতিমালা মানা বাধ্যতামূলকরিকুইজিশনের ক্ষেত্রে ডিএমপিকে অবশ্যই হাইকোর্টের দেওয়া নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। সেগুলো হলো—✔️ রিকুইজিশনকৃত গাড়ি শুধু জনস্বার্থে ব্যবহার করা যাবে✔️ ব্যক্তিগত গাড়ি সাধারণত রিকুইজিশন করা যাবে না✔️ কোনো গাড়ি ৭ দিনের বেশি রিকুইজিশনে রাখা যাবে না✔️ গাড়ির মালিককে আগে থেকেই লিখিত নোটিশ দিতে হবে এবং সেখানে রিকুইজিশনের কারণ উল্লেখ থাকতে হবে✔️ পুলিশ সদস্য বা তাদের পরিবারের কেউ ব্যক্তিগত কাজে এই গাড়ি ব্যবহার করতে পারবে না✔️ রিকুইজিশন চলাকালীন জ্বালানি, ড্রাইভারসহ সব খরচ পুলিশ বহন করবে✔️ এই সময়ে গাড়ির কোনো ক্ষতি হলে তার সম্পূর্ণ দায় ডিএমপি বহন করবেআইন জানা থাকলে আতঙ্কের কারণ নেইবিশেষজ্ঞদের মতে, আইন ও নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো গাড়ি রিকুইজিশন করা হলে তা চ্যালেঞ্জযোগ্য। তাই সঠিক তথ্য জানা থাকলে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।বি.দ্র.: তথ্যের কোনো ত্রুটি থাকলে সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আইনজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা উচিত।