
নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার (জানুয়ারি–মার্চ ২০২৬) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।আইজিপি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একটি সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা নতুন করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে এবং জনগণের প্রশংসা পেয়েছে।তিনি বলেন, অপরাধ তদন্তে সিআইডি একটি এপেক্স সংস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্ববোধ এবং আইনগত সক্ষমতার মাধ্যমে সিআইডি দেশের বিচার ও আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।আইজিপি আরও বলেন, প্রতিটি কর্মকর্তা ও সদস্যকে নিজ নিজ দায়িত্বকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তদন্তের গতি ও মান উন্নয়ন এবং সময়মতো মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।পুলিশ বাহিনীর নৈতিকতা ও সততা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থেকে পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন আইজিপি। তিনি বলেন, দ্রুত সাড়া দিতে রেসপন্স টিম সবসময় প্রস্তুত রাখতে হবে এবং অপরাধের মূল কারণ বিশ্লেষণ করে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, ক্রাইম কনফারেন্সে বিভিন্ন ইউনিট তাদের কার্যক্রম, অর্জন ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে এবং আলোচনার ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।অনুষ্ঠান শেষে সিআইডির বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের কৃতিত্বপূর্ণ ও সাহসী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদান করা হয়। সভায় সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং জেলা ইউনিটসমূহ অনলাইনে অংশগ্রহণ করে।