
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এর চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দিয়েছেন।সূত্রের দাবি, বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে আসামি মুক্তি, টাকা না দিলে একাধিক মামলায় চালান, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়, জুয়ার বোর্ড পরিচালনায় সখ্যতা, রাজনৈতিক হয়রানিসহ মোট ১১টি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে তদন্তে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ আনা হয়। এরপর পুলিশ সদর দপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে সিএমপি কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। দায়িত্ব দেওয়া হয় সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস)-কে। গত মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।জানা গেছে, পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদারকি সংস্থা পুলিশ ইন্টারনাল ওভারসাইট (পিআইও) বাবুল আজাদ ডবলমুরিং থানায় দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অভিযোগ পায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। পরে সেটি পুনরায় তদন্তের জন্য সিএমপিতে পাঠানো হয়।তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে—ডবলমুরিং থানায় দায়িত্বকালে আগ্রাবাদ, হালিশহর, বড়পুল, দেওয়ানহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় জুয়ার বোর্ড থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনজন শীর্ষ মাদক কারবারির কাছ থেকেও মাসিক অর্থ আদায়ের তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।আরও অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া, ভুয়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আসামি করা, নির্যাতন, সাংবাদিক হয়রানি এবং অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর মতো ঘটনাও তদন্তে এসেছে। কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনের সময় তিন রাজনৈতিক কর্মী হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।তবে অভিযুক্ত ওসি বাবুল আজাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ফয়সাল আহমেদ বলেন, “আমার আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তিনি অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছেন। সেখানে কী আছে, তা আমার জানা নেই।”পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।উল্লেখ্য, বাবুল আজাদ ২০০৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশে ৩০তম আউটসাইড ক্যাডেট ব্যাচে যোগ দেন। অতীতেও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে, যদিও সেসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।