নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা এখন নাগরিকদের আস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, নিরাপত্তাই বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিকদের শীর্ষ উদ্বেগ।জরিপে অংশ নেওয়া ৯২ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, সহিংসতায় জড়িত কোনো দল বা প্রার্থীকে তারা ভোট দিতে চান না। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সহিংসতাকেই ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।এই প্রেক্ষাপটে যমুনা টেলিভিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ আয়োজনে “ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তা” শীর্ষক একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চীফ অফ পার্টি ক্যাথরিন সিসিল বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি এখন বাস্তব সমস্যা। তিনি জানান, জরিপে আরও দেখা গেছে—২৭ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন, আর সহিংসতা শুধু ভোটারদের দূরে সরিয়ে দেয় না, বরং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতাকেও দুর্বল করে।ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের মুখ্য পরিচালক মো. আব্দুল আলীম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর লুট হওয়া অনেক অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাই সব রাজনৈতিক দলকে এক হয়ে ভোটার নিরাপত্তার জন্য একটি সমন্বিত গাইডলাইন তৈরির আহ্বান জানান তিনি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা বলেন, নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে সুস্পষ্ট আশ্বাস নেই। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার বিষয়ে কার্যকর নির্দেশনা দিচ্ছে না, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।চ্যানেল ২৪-এর সিনিয়র রিপোর্টার জিনিয়া কবির বলেন, আইন অনুযায়ী নির্বাচনে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি অতি উৎসাহী নেতাকর্মীদের প্রভাব বিস্তার রোধে দলগুলোর সতর্ক ভূমিকার ওপর জোর দেন।জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর বলেন, বড় দলগুলোর পেশিশক্তির ব্যবহার প্রার্থীদের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুর রব নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এখনো সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়নি এবং প্রশাসন নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছে। নেতাকর্মীদের ভুল হলে ক্ষমা চাওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।বিএনপির গবেষণা টিমের সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছে। অভিযোগ গ্রহণে হটলাইন চালু করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের অনিয়মের বিষয়ে দল কঠোর অবস্থানে রয়েছে।সংলাপে বক্তারা একমত হন, ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ, দলীয় শৃঙ্খলা এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অবস্থান এখন নাগরিকদের প্রধান প্রত্যাশা।
