প্রিমিয়াম ব্যাংকে সাম্প্রতিক প্রোমোশন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে ব্যাংকের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসছেন, তাদেরকে উপেক্ষা করে ন্যূনতম যোগ্যতাহীন ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রোমোশন দেওয়া হয়েছে—যা ব্যাংকের ন্যায়পরায়ণতা ও স্বচ্ছতাকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।বিশেষ করে দিলকুশা কর্পোরেট ব্রাঞ্চ ও মতিঝিল ব্রাঞ্চে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রোমোশন না দিয়ে যাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যারা ব্যাংকের অভ্যন্তরে নিষিদ্ধ কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্নভাবে ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন, তাদেরকেই উল্টোভাবে প্রোমোশনের মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া ব্যাংকের এইচআর নীতিমালা অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা দীর্ঘ ছয়–সাত বছর একই ব্রাঞ্চে কর্মরত থাকার কথা নয়। নির্দিষ্ট সময় পর নিয়ম অনুযায়ী বদলি হওয়া বাধ্যতামূলক। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কিছু কর্মকর্তা বছরের পর বছর একই ব্রাঞ্চে অবস্থান করছেন। এমনকি এইচআর বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বদলি নোটিশ জারি হওয়ার পরও তা কার্যকর হয়নি।এই প্রেক্ষাপটে মৌসুমী তালুকদারের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার বদলি হওয়ার কথা থাকলেও এবং বদলি নোটিশ আসার পরও তিনি বদলি হননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই ব্রাঞ্চে কর্মরত রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গ্রাহক ও ব্যাংকের কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—যদি এইচআর থেকে বদলি নোটিশ জারি হয়, কিন্তু তা কার্যকর না হয়, তাহলে সেই নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন কোথায় দাঁড়ায়?গোপন সূত্রে জানা যায়, হেড অফিস থেকে প্রোমোশন ও বদলি সংক্রান্ত যেসব নির্দেশনা পাঠানো হয়, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হচ্ছে। কিছু অসাধু ম্যানেজার ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ঘনিষ্ঠতা ও স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে যোগ্য ও পরিশ্রমী কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অযোগ্যরা সুবিধা পাচ্ছেন।এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, যারা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাস্টমার সার্ভিস দিয়ে ব্যাংকের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছেন, প্রকৃতপক্ষে তারাই প্রোমোশনের যোগ্য। ম্যানেজারদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও খেয়ালখুশির ওপর ভিত্তি করে প্রোমোশন ও বদলি দেওয়া শুধু অনৈতিক নয়, বরং এটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।গ্রাহক ও সচেতন মহলের দাবি—দুর্নীতিগ্রস্ত ও অনৈতিকভাবে সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের অপসারণ করে যোগ্য, সৎ ও পরিশ্রমী কর্মকর্তাদের ন্যায্য মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রোমোশন ও বদলি কার্যকর করতে হবে। তবেই প্রিমিয়াম ব্যাংক তার হারানো আস্থা, সুনাম ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করতে পারবে।
