চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার মালামাল লুট করেছে দস্যুরা। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমদানিকারক ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।এ পরিস্থিতিতে দস্যুতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই ভোরে চট্টগ্রাম বন্দরের চার্লি অ্যাঙ্করেজে নোঙর করা সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘তাই শুয়েন’-এ হামলা চালায় প্রায় ২০ জন সশস্ত্র জলদস্যু। পাঁচটি কাঠের নৌকায় করে এসে তারা জাহাজে ওঠে। হংকং থেকে আনা জাহাজটি সীতাকুণ্ডের জনতা স্টিলের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল।শিপিং এজেন্ট বেন লাইনের মালিক মোশাররফ হোসেন জানান, দস্যুদের একটি দল নাবিকদের ব্যস্ত রাখার সুযোগে অন্য দল জাহাজের ডেক থেকে নোঙরের দড়ি, ব্যাটারি ও অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।তিনি বলেন, জাহাজের ক্যাপ্টেন তাৎক্ষণিকভাবে বন্দর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে রেডিও বার্তা পাঠালেও কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জলদস্যুরা পালিয়ে যায়।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নিরাপত্তা জোরদার না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
