বিতর্কিত আবাসন প্রকল্প আশিয়ান সিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ, আইনি বাধ্যবাধকতা অমান্য এবং এক অভিনেত্রীকে বন্দি রেখে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মামলা ও আইনি পদক্ষেপের মুখেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।অভিনেত্রীকে নির্যাতন ও জামিন বিতর্কঅভিযোগ অনুযায়ী, ১৬ লাখ টাকার বিজ্ঞাপনের কথা বলে ডেকে নিয়ে অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীকে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতন, শর্টগানের হুমকি, গরম কফি নিক্ষেপ এবং জোড়পূর্বক ওষুধ মিশ্রিত মদ পান করানোর মতো ঘটনা ঘটে। জীবন বাঁচাতে ওই অভিনেত্রী ভবনটির দোতলা থেকে লাফ দেন। এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় মামলা হলেও আসামির মাত্র ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন পাওয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।অবৈধ দখল ও অনুমোদনের তোয়াক্কা না করাসুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে আশিয়ান সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিপুল জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে:জমি ভরাট ও বিক্রি: ৪৩ একরের অনুমোদন থাকলেও খাল-বিল ভরাট করে প্রায় ১২০০ একর এলাকা দখল করা হয়েছে।জালিয়াতি: ৩,১৮০ কাঠা জমি কিনে ৩২,০০০ কাঠা বিক্রির মতো চরম জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ৫০ লাখ টাকার জরিমানা কমিয়ে ৫ লাখ টাকায় নামিয়ে আনার পেছনেও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য উঠে এসেছে।স্বজন ও খাসজমি আত্মসাৎ: নিজের চাচাতো বোন আনোয়ারা বেগমের ১০ শতাংশ জমিসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তথ্যমতে ৭.৮৯২৫ একর খাসজমি লুটের অভিযোগে তাঁর নাম জড়িয়েছে।বিপুল খেলাপি ঋণ ও হত্যা মামলাআশিয়ান এডুকেশন সিটির ৬৪৬ কোটি টাকাসহ সংস্থাটির মোট ৯৮২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তা এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে এসব ঋণ দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত ১২টি হত্যা মামলার আসামির তালিকাতেও নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার নাম রয়েছে।রাজনৈতিক আশ্রয়ের চেষ্টা ও আমিনুল হকের প্রতিক্রিয়াঅতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে রাজত্ব চালালেও বর্তমানে তিনি নতুন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিএনপি নেতা আমিনুল হক এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার মতো ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কোনো প্রকার যোগাযোগ বা সম্পর্ক কখনোই ছিল না এবং তাঁর নাম ভাঙানোর অপচেষ্টাকে তিনি ধিক্কার জানান।প্রশাসনিক শিথিলতা, বছরের পর বছর চার্জশিট না হওয়া এবং আইনের নানা ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এই অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
