ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, হোসেন মো. শামসুজ্জামান ওরফে “মেজর জামান/র্যাব জামান” দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি কখনো নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, কখনো পুলিশ, আবার কখনো র্যাবের প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন।ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সাপ্লাই ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। একাধিক ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ গ্রহণ করলেও প্রতিশ্রুত কোনো কাজই তিনি বাস্তবায়ন করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি পুনর্দ্বনা (রিফান্ডযোগ্য) অর্থ ও ঋণ গ্রহণ করে তা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকের কর্পোরেট ব্রাঞ্চসহ একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।বিশেষভাবে অভিযোগ উঠেছে, মেসার্স জুবায়ের ভিশন ইলেকট্রনিক্স-এর টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি প্রায় দুই কোটি টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে কোনো কাজ না করে সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—যা তার প্রতারণামূলক কার্যকলাপের একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, এসব প্রতারণা ও আত্মসাৎকৃত অর্থের মাধ্যমে তিনি ঢাকার হাতিরপুল এলাকায় ‘শেল্টেক খেয়া’ আবাসিক প্রকল্পে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা অর্থের জোরেই তিনি বিলাসী জীবনযাপন করছেন। নিয়মিতভাবে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব থেকে অর্থ পাওয়ার ভুয়া গল্প শোনানোই ছিল মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের তার পরিচিত কৌশল।এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, তার পরিবার নিজ এলাকাতেও একাধিক ব্যক্তির কাছে ঋণগ্রস্ত। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব—বিশেষ করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠতার দাবি করে—তিনি অনৈতিক সুবিধা আদায় করেছেন বলেও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। ভুয়া টেন্ডার, ভুয়া পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আনুমানিক ১৭ থেকে ২১টি মামলা চলমান রয়েছে, যার অধিকাংশই আর্থিক প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত।আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ডিভি হারুন ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। নিয়মিত যাতায়াত ও যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি এই সম্পর্ককে নিজের প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন বলেও ভুক্তভোগীদের দাবি।ভুক্তভোগীদের দাবিভুক্তভোগীরা হোসেন মো. শামসুজ্জামান ওরফে “র্যাব জামান”-এর সকল পরিচয়, লাইসেন্স, টেন্ডার কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
