কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের গার্ডের ছুরিকাঘাতে একই পরিবারের দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ জনতা প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন আটকে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তোপের মুখে ট্রেনের লোকোমাস্টার (চালক), কন্ডাক্টর গার্ড ও পরিচালক সহ সব স্টাফ ট্রেন রেখেই চম্পট দেন।শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছালে এ নজিরবিহীন ঘটনার সৃষ্টি হয়।আহতরা হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা আব্দুর রহিম (৬০) এবং তাঁর ছেলে শফিউল আওয়াল সুমন (৪০)।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে আব্দুর রহিম, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে দ্রুতগতিতে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্ল্যাটফর্ম নিচু থাকায় ও ভিড়ের কারণে তাঁরা নির্ধারিত বগিতে উঠতে না পেরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বগিতে প্রবেশ করেন। এতে ট্রেনের কন্ডাক্টর গার্ড আবদুল্লাহ আল মামুন এসি টিকিট না থাকার অভিযোগে তাঁদের ওপর চড়াও হন।একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে গার্ড মামুন সুমনের মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এর প্রতিবাদ জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি এনে আব্দুর রহিম ও তাঁর ছেলে সুমনের ওপর হামলা চালান। এতে দুজনই রক্তাক্ত জখম হন।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্টেশনে অবস্থানরত যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সুন্দরবন এক্সপ্রেস আটকে রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিরাপত্তার আশঙ্কায় ট্রেনের চালক ও কন্ডাক্টর গার্ডসহ কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে গা ঢাকা দেন। এতে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় ওই রুটের ট্রেন চলাচল, চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত স্টেশনে উপস্থিত হন। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত গার্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে বেলা সোয়া ২টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।এদিকে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের হাতে সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে জরুরি বিভাগ থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ট্রেন স্টেশনে ছেড়ে রেখে কর্মচারীদের এভাবে পালিয়ে যাওয়া ও যাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও সাধারণ যাত্রীরা।
