গত এক দশকে যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় আগের বছরের তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেড়েছে। রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা।রেলওয়ে সূত্র জানায়, আয়ের সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি এসেছে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। এই খাতে আগের বছরের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে। তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন খাতে আয় কমেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এছাড়া ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ দিয়ে আরও ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা অতিরিক্ত আয় হয়েছে।২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেতন-ভাতা, পেনশন, রক্ষণাবেক্ষণসহ রেলওয়ের মোট পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ফলে অপারেটিং রেশিও দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১, যা আগের অর্থবছরের ২ দশমিক ০৯ থেকে কমেছে। এতে আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও কিছুটা কমে এসেছে।রেলওয়ের তথ্যমতে, প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন ব্যয় পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। এই ব্যয় বাদ দিলে অপারেটিং রেশিও নেমে আসে ১ দশমিক ৪৩-এ, যা সংস্থাটির আর্থিক অবস্থার আরও ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের পর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীভাড়া বাড়ানো হয়নি। অথচ এ সময়ে জ্বালানি, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলে রেলওয়ের আয়-ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। তবে ভাড়া না বাড়িয়েও আয় বৃদ্ধিকে রেলওয়ের ব্যবস্থাপনা ও সেবার উন্নয়নের ইতিবাচক ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
