ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শেষবারের মতো জীবন বাজি রেখেছিল। তবে সেই আন্দোলনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত না হওয়ায় আগামী ১০০ বছরেও দেশে আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না বলে তিনি মনে করেন।শনিবার (১১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।রুমিন ফারহানা বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানে যে স্বপ্ন ছিল, মানুষ যখন দেখল সেটি কতিপয় মানুষের নিজস্ব সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে, উগ্রবাদের উত্থান ঘটেছে এবং কিছু মানুষ অস্বাভাবিকভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে গেছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষ ভবিষ্যতে এমন আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আগে বহুবার চিন্তা করবে।”তিনি প্রশ্ন তোলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে হিজাব পরা ও হিজাববিহীন নারীরা একসঙ্গে অংশ নিলেও পরবর্তী সময়ে সেই সহনশীল পরিবেশ কেন বজায় রাখা গেল না। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের মুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুর এবং একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে ‘ভয়াবহ উগ্রবাদের উত্থান’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি আগে জানা থাকলে অনেকেই হয়তো আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতেন।আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের পরও দেশের সাধারণ মানুষ বারবার প্রতারিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমেদ, জেএসডির সহসভাপতি নুরুল আখতার ও সিরাজ মিয়াসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।
