বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম ও অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এই বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।অভিযোগপত্রে ডিজি আফজাল হোসেনকে ‘দুর্নীতির সিন্ডিকেটের প্রধান’, ‘ঘুষখোর’ এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ‘পোষ্যপুত্র’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।মেগা প্রকল্পে ব্যাপক লুটপাট ও অনিয়মঅভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, আফজাল হোসেন যখন পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প এবং খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তিনি ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাট চালান। মেগা প্রকল্পগুলোতে পাথরের বদলে ইটের খোয়া ব্যবহার করে ঠিকাদারদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়া এবং ভূয়া বিলের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লোপাট করার সুনির্দিষ্ট নথিপত্র এখন দুদকের টেবিলে রয়েছে।১০ কোটি টাকার বিনিময়ে শীর্ষ পদ!রেলওয়ে সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে তোয়াক্কা না করে প্রায় ১০ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে আফজাল হোসেন রেলওয়ের এই শীর্ষ পদে বসেন। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী তাঁর অভিযোগে বলেন:”রেলওয়েকে একটি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে, যেখানে ঠিকাদার, আমলা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী লুটেরা চক্র কাজ করছে।”সরকার পরিবর্তনে ভোলবদলঅভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এই কর্মকর্তা সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। তবে সম্প্রতি সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে তিনি রাতারাতি ভোল্টপাল্টে নিজেকে ‘বিএনপিপন্থী’ হিসেবে জাহির করা শুরু করেছেন।বর্তমানে এই প্রভাবশালী কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের যাবতীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
