ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে আইন কলেজের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ডিবির দাবি, গাঁজাসহ আটক হওয়ার পর হেফাজতে থাকাকালে অসুস্থ হয়ে পড়ে তার মৃত্যু হয়। তবে প্রান্তের পরিবার, স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে মারধর, মিথ্যা মামলা এবং অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছেন।পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুন বিকেলে মধুখালীর বাড়ির সামনে থেকে প্রান্তকে আটক করার সময় তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে টাকা চাওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রান্তের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে একটি মিথ্যা মাদক মামলা দেওয়া হয়।অন্যদিকে ডিবি বলছে, প্রান্তের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তার সঙ্গে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। হেফাজতে থাকাকালে ফজরের নামাজের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ডিবির বর্ণনায় বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। ফলে প্রান্তকে আটকের পর ডিবি কার্যালয়ে কী ঘটেছিল এবং হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।বাংলাদেশে হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার উদ্বেগের বিষয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন চারজন।
