কুমিল্লায় মাদকবিরোধী মানববন্ধনে হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইথান আহমেদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। মাদক ব্যবসায়ীদের তণ্ডব ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা সবাই তাদের (মাদক ব্যবসায়ীদের) কাছে সারেন্ডার করে চলে যাই। আর না হয় কিছু একটা করেন… না হয় চলেন মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্ষমতা ছাইড়া দেই।”বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় কুমিল্লা নগরের কাটাবিল এলাকায় আহত শিক্ষার্থী ইথান আহমেদের মায়ের সাথে দেখা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ওসি ও নিজের পদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “মাদক ব্যবসায়ী থাকবে, একজন স্কুলছাত্র স্কুলে যেতে পারবে না, তারপর আপনি ওসি থাকবেন আমি এমপি থাকব—এটা ঠিক না।”এমপি মনিরুল হক চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের সাথেও কথা বলবেন বলে জানান। ইতিমধ্যেই তিনি ডিআইজি এবং কুমিল্লার এসপি-র সাথে কথা বলেছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর ফলাফল দেখতে চান বলে হুঁশিয়ারি দেন।পরে তিনি আহত ইথান আহমেদের মা সোনিয়া আক্তারের সাথে কথা বলে তার খোঁজখবর নেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগাযোগের আশ্বাস দেন। ইথানের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, অপু এবং সাব্বির—এই দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই মারামারি চলছিল। টিফিন দেওয়ার পর বাসায় ফেরার পথে তার একমাত্র ছেলের পিঠে গুলি লাগে।ঘটনার প্রেক্ষাপট:উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচিতে আকস্মিক হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ প্রেম (১২)-সহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। ইথান কাঁটাবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মো. ইউনুস মিয়ার ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
