ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জোড়া এই ভূমিকম্পে একাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে, আতঙ্কে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন।মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প দেশটিকে কাঁপিয়ে দেয়।ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এ দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ এবং মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৩০ শতাংশ।ভূমিকম্পের ফলে পার্বত্য এলাকায় বড় ধরনের ভূমিধস এবং সমতল অঞ্চলে মাটির তারল্য (লিকুইফেকশন) দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ঘটনার পর ভেনিজুয়েলা উপকূল এবং নিকটবর্তী আরুবা ও বোনাইর দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, রাজধানী কারাকাসের বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে। উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে বিভিন্ন ভবনে বড় ধরনের ফাটল এবং কয়েকটি স্থাপনা সম্পূর্ণ ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে।কারাকাস ছাড়াও ত্রুহিলিও, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগুয়া, মিরান্দা ও লা গুয়াইরা রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।রাজধানীর লস পালোস গ্রান্দেস ও আলতামিরা এলাকাকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে কারাকাসে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পেও এ দুটি এলাকা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল।তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো চূড়ান্ত সরকারি হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
