দেশের বাইরে গাড়ি চালানোর একমাত্র বৈধ দলিল ‘আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট’ (আইডিপিপি) ইস্যু নিয়ে রাজধানীতে এক ভয়ংকর জاليةতি সিন্ডিকেটের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযোগ উঠেছে অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এবি)-এর সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী ফুয়াদ পাশা বাবুলের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট প্রদান, বিআরটিএ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জاليةতি এবং অবৈধ উপায়ে দেশ-বিদেশে শত কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।### চাকরি হারিয়েও থামেনি অবৈধ ‘পারমিট বাণিজ্য’অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন অনিয়ম ও জاليةতির অভিযোগে কয়েক মাস আগে আলী ফুয়াদ পাশা বাবুলকে ‘এবি’ থেকে অপসারণ করা হয়। তবে চাকরিচ্যুত হওয়ার পরও তিনি প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো সিল, ফরম, লাইসেন্স বই এবং অফিশিয়াল যোগাযোগ নম্বর ব্যবহার করে নিজ বাসা থেকেই সমান্তরালভাবে এই অবৈধ পারমিট বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।### বিদেশে গিয়ে চরম বিপাকে প্রবাসী বাংলাদেশিরামালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বা গমনেচ্ছু বাংলাদেশি নাগরিকরা দ্রুত পারমিট পাওয়ার আশায় তার কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট সংগ্রহ করে চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই বিদেশে গিয়ে কর্মস্থলে বা ট্রাফিক পুলিশের মুখোমুখি হয়ে জানতে পারছেন যে তাদের হাতে থাকা পারমিটটি সম্পূর্ণ ভুয়া।জাপানপ্রবাসী এক ভুক্তভোগী জানান, বাবুলের চক্রকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে নেওয়া পারমিটটি ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তিনি সেখানে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন এবং অল্পের জন্য জেল-জরিমানা থেকে রক্ষা পান। একইভাবে নিউইয়র্কপ্রবাসী এক বাংলাদেশির জন্য সংগৃহীত পারমিটটি জাল প্রমাণিত হওয়ায় তিনি সেখানে গাড়িই চালাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন তার দেশে থাকা ব্যবসায়ী আত্মীয়।### মিরপুরের নিজস্ব ভবনই এখন ‘জاليةতি অফিস’সূত্রমতে, বর্তমানে তিনি রাজধানীর মিরপুর-১২ এলাকার পল্লবীর সেকশন-সি, ৮ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর নিজস্ব ভবন (বাবুল ভিলা) অবস্থান করে বিশ্বস্ত দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সাধারণ গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করতে এবি-এর অফিশিয়াল মোবাইল নম্বরটি এখনও বাবুল ও তার পরিবার ব্যবহার করছেন। জরুরি ও দ্রুত পারমিট করে দেওয়ার নামে প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।### পারিবারিক সিন্ডিকেট ও ভারতীয়দের এনআইডি দেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগআলী ফুয়াদ পাশা বাবুলের বিরুদ্ধে আরও এক বিস্ফোরক অভিযোগ হলো, তিনি তার পল্লবীর বাসার ঠিকানা ব্যবহার করে একাধিক ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং ভোটার নিবন্ধন সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। মিরপুরের পল্লবী সেকশন-১২, ব্লক-সি এলাকার ভোটার তালিকায় আশিক ইকবাল, হাসিনা বেগম, শেখ মোজাচ্ছার নাজার, শাকিলা বেগম, মাসুম আহমেদ এবং আলতাফ হোসেন নামের ভারতীয় নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
