নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগমকে ২৪ দিনের ব্যবধানে তিনবার বদলি করায় প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বারবার বদলির এ ঘটনায় নেপথ্যে কারা প্রভাব বিস্তার করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।সূত্র জানায়, গত প্রায় এক মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাহমুদা বেগমকে তিন দফা বদলির আদেশ জারি করেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। এদিকে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুও এ ধরনের ঘনঘন বদলিকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে।অভিযোগ উঠেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগে কর্মরত উপসচিব মো. মোস্তফা মনোয়ার এ বদলি প্রক্রিয়ার পেছনে প্রভাব বিস্তার করছেন। তবে এ বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।জানা যায়, ৩০তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. মোস্তফা মনোয়ার ২০২৪ সালের ২১ মার্চ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলএ (ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন) মামলার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়।অভিযোগ রয়েছে, ১৫ নম্বর এলএ কেসে ২৪০ কোটি টাকা, ১৪ নম্বর এলএ কেসে ৪৮ কোটি টাকা এবং ১০ নম্বর এলএ কেসে ৭১ কোটি টাকাসহ মোট ৩৫৯ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ বিতরণে নানা অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জমি অধিগ্রহণ আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই এসব অ্যাওয়ার্ড প্রস্তুত ও চূড়ান্ত করা হয়।এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ ওঠার পর রাষ্ট্রের বিপুল অঙ্কের অর্থ ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় ভূমি মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।এদিকে তদন্তের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ফিল্ডবুক, জমির পূর্ববর্তী অবস্থার ভিডিও এবং অন্যান্য রেকর্ড সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
