রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টের এসি লাইন কেটে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন ও মালিকপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পাশের দোকানদারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী রেস্টুরেন্ট মালিক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করেছেন, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।**ঘটনার বিবরণ:**প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, উত্তরা ১৪ নং সেক্টরের ১৫ নং রোডের ০১ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ‘FISHERMAN uttara’ নামক রেস্টুরেন্টের মালিক সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ (৫৮)। তাঁর রেস্টুরেন্টের পাশেই অবস্থিত ‘মিঠূ ইলেকট্রনিক্স’ নামক একটি দোকান, যার মালিক আব্দুল মালেক। অভিযোগ রয়েছে যে, মিঠূ ইলেকট্রনিক্সের মালিক আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অবৈধ ও চোরাই ফ্রিজ এবং এসি বেচাকেনার সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত।সম্প্রতি ‘ফিশারম্যান উত্তরা’ রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ মিঠূ ইলেকট্রনিক্স থেকে একটি এসি ক্রয় করে। কিন্তু অত্যন্ত নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ চোরাই পণ্য হওয়ায় মাত্র সাত দিন পরেই এসিটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। রেস্টুরেন্ট মালিক নষ্ট এসি ফেরত দিতে চাইলে আব্দুল মালেক তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং গ্রাহকের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন। কোন উপায় না পেয়ে ফিশারম্যান কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে বাইরে থেকে নতুন এসি কিনে এনে রেস্টুরেন্টে স্থাপন করে।**প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড ও ক্ষতিসাধন:**বাইরে থেকে নতুন এসি কিনে আনার পর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আব্দুল মালেক। তিনি ফিশারম্যান রেস্টুরেন্টটিকে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং দোকান ছাড়ানোর উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায়, আজ ১২ জুন ২০২৬ তারিখে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভবনের ছাদের ওপর উঠে ফিশারম্যান রেস্টুরেন্টের টিনের চাল ফুটো করে ভেতরে প্রবেশ করা হয় এবং নতুন ২টি এসির গ্যাস বের করে দিয়ে এসি লাইনটি কেটে (কর্তন) দেওয়া হয়।এই সুপরিকল্পিত নাশকতার কারণে রেস্টুরেন্ট মালিকের আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার তাৎক্ষণিক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং বর্তমানে রেস্টুরেন্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার পরপরই আইনি নিরাপত্তার স্বার্থে সৈয়দ জহির আহসান জাহিদ উত্তরা পশ্চিম থানায় হাজির হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (আবেদন ট্র্যাকিং নং: 1L3CET) দায়ের করেন।**আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা:**জিডি দায়েরের পর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত সম্পন্ন করেছে। জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুল মালেকের চোরাই ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রির অবৈধ ব্যবসা এবং এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এই চক্রটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসার ক্ষতি করতে এবং তাদের উচ্ছেদ করতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। অবিলম্বে অভিযুক্ত আব্দুল মালেককে দ্রুত আইনের আওটায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মহল।
