বনানী থানা থেকে শুরু করে ডিবি অফিস, আর এখন রমনা বিভাগ—যেখানেই গেছেন, সেখানেই ছড়িয়েছেন বিতর্কের তীব্র গন্ধ। তিনি আর কেউ নন, রমনা বিভাগের বর্তমান ইন্সপেক্টর রাসেল সরোয়ার(বিপি: ৭৭০৪১০২৩৮০)। যার বিরুদ্ধে উঠেছে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের দালালদের পুনর্বাসনের এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ। শুধু পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই নয়, সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে তিনি এখন টক অব দ্য টাউন।### 🔍 ডিএমপির অ্যাকশনে বদলি, ডিবিতেও চলছে অপকাণ্ডঅনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালে বনানী থানার ওসি থাকা অবস্থায় ইন্সপেক্টর রাসেল সরোয়ারের মূল আয়ের উৎস ছিল গুলশান-বনানী এলাকার অবৈধ স্পা ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মাসে কেবল স্পা ব্যবসা থেকেই তিনি ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মাসোহারা তুলতেন। এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ তৎকালীন ডিএমপি কমিশনারের কান পর্যন্ত পৌঁছালে, শাস্তি স্বরূপ তাকে ওসির পদ থেকে সরিয়ে ডিবিতে (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) বদলি করা হয়।কিন্তু বিড়ালের ভাগ্য নাকি নয় বার গড়ায়! ডিবিতে গিয়েও থামেনি তার এই অর্থলিপ্সা, সেখানেও সমানতালে চলেছে তার নিত্যনতুন অপকাণ্ড। উল্টো ডিবিতে গিয়ে এই মর্যাদাপূর্ণ সংস্থার ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ করেছেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মামলাগুলোকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।—### 💰 শ্বশুর-শাশুড়ির অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা: অনুসন্ধানে নামছে দুদক?রাসেল সরোয়ারের এই ‘আলাদিনের চেরাগ’ শুধু নিজের অ্যাকাউন্টেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ওসি হওয়ার পর থেকেই তার আয়ের গ্রাফ রকেটের গতিতে ওপরে উঠতে থাকে। নিজের ও স্ত্রীর পাশাপাশি শ্বশুর, শাশুড়ি এবং দূরসম্পর্কের আত্মীয়-স্বজনদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে কোটি কোটি টাকা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, তার এই বিপুল পরিমাণ বেনামী অর্থ এবং ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় একাধিক অবৈধ ফ্ল্যাটের সন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খুব শীঘ্রই তার এবং তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব তলব করা হতে পারে।—### 💸 ১০ লাখ টাকায় ‘সত্য মামলা’ মিথ্যা করার নিখুঁত কারসাজি!সম্প্রতি ইন্সপেক্টর রাসেলের বিরুদ্ধে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ এবং অকাট্য সাক্ষী থাকার পরও, দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৬ ও ৫০৬ ধারার একটি সত্য প্রতারণার মামলাকে স্রেফ ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে,激发িস্ট সরকারের এক চিহ্নিত দালার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের উল্টো হয়রানি করেছেন এবং আদালতে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং ইন্সপেক্টর রাসেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ উচ্চমহলে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।—### 🚨 নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তি: অবিলম্বে দুদকের আওতায় আনার দাবিসর্বশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাসেল সারোয়ারের নামে এবং বেনামে অঢেল টাকা ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে, যা একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সাথে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। দেশের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীদের দাবি—আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এই কর্মকর্তাকে আর ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। তাকে দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালের আওতায় এনে তার এই অবৈধ সম্পদের পাহাড় বাজেয়াপ্ত করা হোক এবং কঠোর আইনগত শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।—### 🚪 পর্দার আড়ালে জোর লবিংএতসব অভিযোগ এবং শাস্তিমূলক বদলির পরও ইন্সপেক্টর রাসেলের আস্কারা কমেনি। বর্তমানে রমনা বিভাগে কর্মরত থাকলেও, তিনি আবারও ডিবিতে বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ থানার ‘ওসি’ পদ বাগিয়ে নেওয়ার জন্য উপর মহল এবং রাজনৈতিক মহলে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।একজন সাধারণ ইন্সপেক্টরের এমন বেপরোয়া কাণ্ডে ক্ষুব্ধ খোদ পুলিশ প্রশাসনের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা। তাদের মতে, রাসেলের মতো দুর্ধর্ষ ও দূরदर्शी চাঁদাবাজদের কারণে গোটা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ত্যাগ ও অর্জন গ্লানির অতলে তলিয়ে যাচ্ছে।**(ইন্সপেক্টর রাসেল সরোয়ারের এই বিপুল সাম্রাজ্যের পেছনের অকাট্য দলিল ও প্রমাণসহ আরও বিস্ফোরক তথ্য নিয়ে আসছে আগামী পর্ব…)**
