সাবেক ফ্যা*সিস্ট সরকারের প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া কথিত ‘চি*টার’ ও ডিবি হারুনের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত শামসুজ্জামান ওরফে জামানকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ডিবি ঢাকা গোয়েন্দা রমনা বিভাগের এক কর্মকর্তা। গুরুতর সব তথ্যপ্রমাণ থাকার পরও তদন্তকারী কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে মামলা দুটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন বলে ভুক্তভোগী ও **বাদীর** পক্ষ থেকে অভি*যোগ উঠেছে।অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম ইন্সপেক্টর মোঃ রাসেল সরোয়ার (বিপি: ৭৭০৪১০২৩৮০), যিনি ঢাকা গোয়েন্দা রমনা বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।**৩ লাখ টাকার গো*পন চুক্তি করে অ*বৈধ মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল**সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতা*রক শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে রমনা জোনে দায়ের হওয়া দুটি সিআর মামলা— মামলা নং- ৬৩/২০২৬ (ধারা ৪২০/৪০৬/৫০৬) এবং মামলা নং- ৬৪/২০২৬ (ধারা ৪২০/৪০৬/৫০৬) তদন্তের দায়িত্ব পান ইন্সপেক্টর মোঃ রাসেল সরোয়ার। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, **ফ্যাসিস্ট** সরকারের দালাল জামানকে এই মামলাগুলো থেকে বাঁচানোর জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর রাসেল সরোয়ারের সাথে ৩ লক্ষ টাকার একটি গোপন চুক্তি হয়েছে। আর এই চুক্তির কারণেই তিনি তদন্তে অবৈধ মি*থ্যা প্রতিবেদন অলরেডি দাখিল করে দিয়েছেন। (ইন্সপেক্টর মো: রাসেল সরোয়ার ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অলরেডি **ফ্যাসিস্ট** সরকারের জামানের কাছে দাখিল করে দিয়েছে মিথ্যা রিপোর্ট। ডিবির ভাবমূর্তি ন*ষ্ট করেছে, ডিবির গোয়েন্দা তদন্ত নষ্ট করেছে কতিপয় অসাধু ইন্সপেক্টর। পর্যাপ্ত পরিমাণ সাক্ষী, চেক, ভিডিও ফুটেজ ও উপস্থিত সাক্ষী থাকা সত্ত্বেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে **বাদীর** অনুপস্থিতিতে সুযোগের সন্ধানে মিথ্যা রিপোর্ট দাখিল করে দিয়েছে। এতে **বাদীর** অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।)**মূল প্রমাণ ও সাক্ষী থাকার পরও ফাইলবন্দী!**মামলার **বাদী** ও ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৩ মাস আগেই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মূল চেক, উকিল নোটিশ এবং অকাট্য ভিডিও ফুটেজসহ যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমনকি মামলার দুইজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দীও প্রদান করেছেন।**সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ:**ভুক্তভোগীরা জানান, ৪ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও ইন্সপেক্টর মোঃ রাসেল সরোয়ার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করে তা ফাইলবন্দী করে দীর্ঘায়িত করছেন। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, সাক্ষীরা যখন ডিবির কার্যালয়ে সাক্ষ্য দিতে যান, তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর রাসেল সরোয়ার তাদের জবানবন্দী সঠিকভাবে নথিবদ্ধ না করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তড়িঘড়ি করে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে **বাদীর** পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো প্রকার সাড়া দিচ্ছেন না।**কে এই প্রতা*রক জামান?**অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত শামসুজ্জামান ওরফে জামান বিগত **ফ্যাসিস্ট** সরকারের আমলে সাবেক বিতর্কিত ডিআইজি হাবিবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ লোক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের অবৈধ অর্থ বহনকারী ও তার কথিত বাড়ির দারোয়ান এবং বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাছাড়া ডিবি হারুন এবং বিপ্লব কুমার সাহার সাথেও তার অত্যন্ত ভালো সম্পর্কের তথ্য পাওয়া যায়। মূলত এই প্রভাব খাটিয়েই তিনি বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৪২০, ৪০৬ এবং ৫০৬ ধারায় দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ২৫টি মামলা চলমান রয়েছে।ডিবিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তাধীন থাকার পরও শুধুমাত্র আর্থিক সুবিধা ও সাবেক প্রভাবশালীদের বলয়ের কারণে এই ‘চিটার’ জামান পার পেয়ে যাচ্ছেন এবং তদন্ত কর্মকর্তা মামলা ঝুলিয়ে রাখছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে police প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে, সেখানে ইন্সপেক্টর মোঃ রাসেল সরোয়ারের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা কীভাবে একজন চিহ্নিত অপরাধীকে বাঁচাতে তদন্ত প্রতিবেদন আটকে রাখছেন?ভুক্তভোগীরা এই বিষয়ে ডিবি প্রধান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।সুষ্ঠু বিচার দাবিতে আইজিপি মহোদয় এবং ডিএমপি কমিশনারের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।



