জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট আসামির ভাগ্য নির্ধারণ হবে মঙ্গলবার। এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় ঘোষণা করবে।বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এটি দ্বিতীয় রায়।এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর দেওয়া প্রথম রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে ২৫ মে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল হাবিবুর রহমানসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ছয়জনকে হত্যা করা হয়। প্রতিবেদনে ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ১৯টি ভিডিও, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, ২টি অডিও, বিভিন্ন বই ও রিপোর্ট এবং ৬টি ডেথ সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হয়েছে।প্রধান কৌঁসুলি জানান, এক অডিও কলে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান পুলিশ কমান্ড সেন্টার থেকে ওয়্যারলেসে চায়নিজ রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন, যার পরই প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন, কনস্টেবল ইমাজ হোসেন ইমন ও কনস্টেবল নাসিরুল ইসলাম। অপর চার আসামি— হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল পলাতক রয়েছেন।২০২৫ সালের ১৪ জুলাই আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে ২৬ জন এবং আসামিপক্ষে ৩ জন সাক্ষ্য দেন। প্রসিকিউশন সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।
