সরকার পুলিশের আরও ৫৩ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঈদের পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন ১৩ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৩১ জন এসপি ও ৯ জন এএসপি।পুলিশ প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, বিরোধী দল দমনে ভূমিকা এবং রাজনৈতিক আনুগত্যের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এসব কর্মকর্তা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত রয়েছেন।এর আগে গত ৩ মে ১৭ জন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, যাদের মধ্যে ১৬ জনই ছিলেন ডিআইজি। এছাড়া ২২ এপ্রিল আরও ১৩ জন কর্মকর্তা এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৯ জন কর্মকর্তাকে একইভাবে অবসরে পাঠানো হয়েছিল।বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনামোজাম্মেল হক-এর নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি আগে র্যাব-৪-এর কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বগুড়া ও নওগাঁর পুলিশ সুপার ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নে তার ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।একইভাবে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান-কে ফেনীর পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।এছাড়া ভোলার ছাত্রদল নেতা নূরে আলম হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আরমান হোসেন-কে কক্সবাজারের রামু থানার ওসি হিসেবে পদায়নের বিষয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। পরে তাকে সেখানে পদায়ন করা হয়নি।আইন অনুযায়ী অবসরসরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার জনস্বার্থে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। এ ক্ষেত্রে কারণ দর্শানোর বাধ্যবাধকতা নেই।সাবেক নূরুল হুদা বলেন, বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করলে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে। তাই যাচাই-বাছাই করে পদায়ন ও পদোন্নতি দেওয়া প্রয়োজন।অন্যদিকে ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা অপকর্মে জড়িয়েছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশে দলীয়করণ পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে।পুলিশ প্রশাসনে বর্তমানে পেশাদার ও আস্থাভাজন কর্মকর্তার সংকট রয়েছে বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
