অভিযোগের পাহাড়ে ‘চিটার জামান’: প্রতারণা, প্রভাব বিস্তার ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগদেশজুড়ে প্রতারণা ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হোসেন মো. শামসুজ্জামান, যিনি ভুক্তভোগীদের কাছে ‘র্যাব জামান’ বা ‘চিটার জামান’ নামে পরিচিত। নিজেকে কখনো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, কখনো র্যাবের উচ্চপদস্থ সদস্য, আবার কখনো বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার স্ত্রী সৈয়দা তাহমিনা সুরভীও এসব কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া, সরকারি সাপ্লাই কাজ নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন হোসেন মো. শামসুজ্জামান। এসব প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে তাকে সরাসরি সহযোগিতা করতেন তার শ্যালক, ভাই এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।জানা গেছে, রমনা থানা, নিউমার্কেট থানা, মিরপুর থানা, উত্তরা পশ্চিম থানা, ডিবি সহ তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৭ টি মামলা চলমান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্ট পৃথক একটি আর্থিক সংক্রান্ত আইনগত ধারা হিসেবে রয়েছে, এছাড়াও ৪২০, ৪০৬, ৫০৬ ও ১০৯ ধারায় একাধিক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার একটি বিলাসবহুল শেলটেক ফ্ল্যাটে বসবাসকারী এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে সাবেক ডিবি কর্মকর্তা হারুন, গোপালগঞ্জের হাবিব ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল উদ্দিনের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সে সময় বিভিন্ন অপকর্ম, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং বিএনপি সরকারকে ফাঁসানোর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।ভুক্তভোগীরা আরও জানান, জামান নিজেকে কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, কখনো আমেরিকার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট, আবার কখনো ১৮তম বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। এসব ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন আউটসোর্সিং প্রকল্পের আড়ালে অর্থ লোপাটের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গাজীপুরের পোড়াবাড়িতে র্যাবের জন্য ভবন নির্মাণের কথা বলে তিনি নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করতেন এবং র্যাবের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, তার স্ত্রী তাহমিনা সুরভী, মা ফিরোজা খাতুন, দুই ভাই ও দুই শ্যালক মিলে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পরিচালনা করে আসছে। এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্নভাবে তাকে সহযোগিতা করে মানুষের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এদিকে, ঢাকা নিউ মার্কেট থানাধীন একটি মামলায় পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, মূল চেক, ভিডিও ফুটেজ এবং লিখিত ডকুমেন্টসহ ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হবে এবং আইনগত অগ্রগতি আসবে।ভুক্তভোগীরা দ্রুত হোসেন মো. শামসুজ্জামান ও তার স্ত্রীসহ জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।বিদ্রঃ কুখ্যাত প্রতারক সামসুজ্জামান ওরফে ‘চিটার জামান’-এর অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার দাবি।প্রচারে: এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পক্ষে রানা, কায়েস, জুয়েল, নাহিদ, মান্নান, রুমা, শিউলি, নাসরিন, নাসিমা, খালেদা।
