চট্টগ্রামের রাউজান ও জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের দমনে শিগগিরই বড় পরিসরে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জেলার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাস, দখলবাজি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।আজ রবিবার (১৭ মে) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। গত ৭ মে আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়।সন্ত্রাস দমন ও ‘টার্গেট কিলিং’ বন্ধ করাকে নিজের কর্মকালের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে এসপি মাসুদ আলম বলেন,> “রাউজানের সন্ত্রাসীরা নগরে এসে টার্গেট কিলিং করছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় অপরাধ ও খুনের ঘটনার সাথে তাদের সরাসরি যোগসাজশ পাওয়া গেছে। তাদের গতিবিধি নজরদারি করতে র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। এই অভিযান সফল করতে পুলিশ একা নয়, বরং সব বাহিনীকে সাথে নিয়ে একটি সমন্বিত ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের অন্যতম আলোচিত অঞ্চল ‘জঙ্গল সলিমপুর’ নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান নবাগত এসপি। এলাকাটিতে ‘রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’ পরিস্থিতি কোনোভাবেই তৈরি হতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানকার সড়ক প্রশস্ত করা এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে এলাকাটিকে একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনা হবে।পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, আচরণ ও পেশাদারিত্ব প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মাসুদ আলম বলেন,> “সেবাপ্রার্থীদের সাথে কোনোভাবেই অপেশাদার আচরণ করা যাবে না। প্রতিটি থানায় জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়লে বা দায়িত্বে অবহেলা করলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করব।”আসন্ন ঈদুল আজহা উৎসব প্রসঙ্গে এসপি জানান, চট্টগ্রাম জেলার প্রায় আড়াইশ পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্যাপন করতে পারে এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত সহজ হয়, সে লক্ষ্যে মহাসড়কসহ জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা হবে। বড় অঙ্কের অর্থ বহনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তা (এসকট) পাবেন বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।উল্লেখ্য, বিসিএস পুলিশের ২৮তম ব্যাচের চৌকস কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলম চট্টগ্রাম জেলায় যোগদানের পূর্বে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন। মতবিনিময় সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
