নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বেইজ স্কুলের ‘ও’ লেভেলের মেধাবী ছাত্র মো. ইয়াছিন আরাফাত (১৭) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৯ মাস পর তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।জানা যায়, গত ১১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন ইয়াছিন আরাফাত। এ ঘটনায় তার মা নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের দুইদিন পর ১৩ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকার ডিএন্ডডি লেকপাড় থেকে ইয়াছিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।পরে নিহতের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন তদন্ত করেও থানা পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার কাছে হস্তান্তর করা হয়।তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ মে ২০২৬ ঢাকার ডেমরা থানা এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি মো. আজিম হোসাইনকে (২৭) গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে কদমতলীর শনিরআখরা এলাকা থেকে মো. ফয়সাল (২৭) এবং রূপগঞ্জের বরাব এলাকা থেকে নুসরাত জাহান মিমকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়।পরদিন ৬ মে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আজিম হোসাইন।পিবিআই জানিয়েছে, পূর্ব বিরোধের জেরে ইয়াছিন আরাফাতকে হত্যা করে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ডিএন্ডডি লেকে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।
