মাত্র প্রায় ৪৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনের চাকরি, অথচ জীবনযাপন বিলাসবহুল—এমন অভিযোগ উঠেছে মো. জাকির হোসেন নামের এক সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে। বর্তমানে সাভার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তার বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য সামনে আসায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে প্রায় ২ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট, প্রায় ১ কোটি টাকার গাড়ি এবং মিরপুরে ৬ কোটি টাকার ছয়তলা বাড়ির মালিক তিনি। এছাড়া মির্জাপুর-এ বিপণিবিতান, কয়েক কোটি টাকার জমি ও একটি পোলট্রি খামারসহ আরও নানা সম্পদের মালিকানা রয়েছে তার।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। এ বিষয়ে সাভারের রাজাশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান পাটোয়ারী গত বছরের ১৯ জুলাই বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি হত্যা মামলায়ও জাকির হোসেনের নাম রয়েছে। তাকে ওই মামলার ৫৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি সাভারে বদলি হয়ে আসেন এবং এ বদলির জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাভারে যোগদানের পর প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের ঘুষ আদায়ের টার্গেট নির্ধারণ, জাল দলিল তৈরি এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে গত ২১ এপ্রিল ‘সাভারবাসী’ ব্যানারে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাকে দ্রুত অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তার ও পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, স্বর্ণালংকার এবং ব্যাংকে একাধিক হিসাবের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
