নোয়াখালী জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগগুলো সামনে এনেছেন।তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ আগস্ট নোয়াখালীর এসপি হিসেবে যোগদান করেন শহীদুল ইসলাম। এরপর থেকেই জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির পরিবর্তে তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি, ঘুষ বাণিজ্য এবং মাদক ও ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে যুবদল নেতাকর্মীদের হয়রানি, নির্যাতন এবং মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ এখন তুঙ্গে।নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আজিম সুমন অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে একটি সাম্প্রদায়িক ঘটনার পর তাকেসহ অনেককে আটকে রেখে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তার পরিবারের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই নন, অনেক সাধারণ মানুষকেও বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি ও অর্থ আদায়ের শিকার হতে হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বর্তমানে প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্ত চলছে। জানা গেছে, ২০২৫ সালের একটি গেজেট অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে অধস্তন কর্মকর্তাদের ওপর বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছিল।শহীদুল ইসলাম ২৫তম বিসিএস ক্যাডারের মাধ্যমে ২০০৬ সালে পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলার সদর উপজেলায়। বর্তমানে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
