চট্টগ্রামে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে, ফলে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। অনেক এলাকায় পানির সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে গরমের তীব্রতা বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েই চলেছে, ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য।এছাড়া পিডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি এবং সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শূন্য ছিল। এর মধ্যে ১০টি কেন্দ্র সকাল-সন্ধ্যা উভয় সময়েই বন্ধ ছিল।বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সকালে কিছু উৎপাদন পাওয়া গেলেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। অন্যদিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং উৎপাদন না বাড়লে আগামী দিনে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। এতে জনভোগান্তি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
