চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ১৬ থানায় ঘন ঘন ওসি বদলির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বিদায়ী কমিশনার হাসিব আজিজের স্বাক্ষরিত আদেশে নগরের সব থানার ওসি পদে ব্যাপক রদবদল আনা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, বদলির আড়ালে একই কিছু সুবিধাভোগী কর্মকর্তা বারবার গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পাচ্ছেন, আর দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে না।তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত দেড় বছরে বহু ওসি একাধিক থানা ঘুরেছেন। বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছেন চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদ, যিনি বিভিন্ন অভিযোগের মুখে থাকলেও ঘুরেফিরে গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বাকলিয়া, পাঁচলাইশ, খুলশী, কোতোয়ালি, হালিশহর, বন্দর, ইপিজেডসহ গুরুত্বপূর্ণ থানাগুলোতে একই কর্মকর্তারা পুনরায় বসানো হয়েছে।নগর পুলিশের মুখপাত্র দাবি করেছিলেন যে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে জানা গেছে এরকম কোনো লটারির অস্তিত্ব নেই। বরং, পেছনে চলছে তদবির ও আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত।নির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়া এমন ব্যক্তিগত ও প্রভাবশালী তদবিরে পুলিশ বদলি হলে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং জনবিশ্বাসে ভঙ্গ তৈরি হয়, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, থানার ওসি বদলিতে সুনির্দিষ্ট, লিখিত ও জবাবদিহিমূলক নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
