মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বিপুল পরিমাণ পরিযায়ী পাখি শিকারের অভিযোগে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ ছয়জনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আ স ম হাদিউল ইসলাম ভূঁইয়া (৮১), আবরার উদ্দিন আহমেদ (৭০), হাজী ওসমান আলী (৭৭), মাজহারুল হক কোরেশী (৭০), আব্দুল্লাহ নূর (৭২) ও আরিক আহমেদ (২৭)।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে একটি প্রাইভেটকারে করে ঢাকা থেকে গজারিয়ায় আসেন তারা। তাদের কাছে শটগান ও এয়ারগান ছিল। পরে ট্রলারে করে মেঘনা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে গিয়ে পাখি শিকার করেন তারা।সন্ধ্যায় ফেরার সময় স্থানীয়রা দেখতে পান, তারা বিপুল পরিমাণ পাখি শিকার করেছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাথাভাঙ্গা গ্রামের ঈদগাহ এলাকায় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অপরাধ স্বীকার ও বয়স বিবেচনায় একজনকে এক লাখ টাকা এবং বাকি পাঁচজনকে ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।এ সময় তাদের কাছ থেকে পাখি শিকারে ব্যবহৃত ৩টি শটগান, একটি এয়ারগান এবং ৬৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্তরা একদিনেই কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখি শিকার করেছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তারা আশঙ্কা করছেন, এভাবে নির্বিচারে পাখি নিধন চলতে থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
