আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আশুলিয়ার বহুল আলোচিত হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে। ৫৯১ পৃষ্ঠার এই রায়ে আদালত অপরাধের ভয়াবহতা এবং আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন।রোববার (১৫ মার্চ) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল স্বাক্ষরের পর এ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছিল।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ, সাবেক উপপরিদর্শক আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার এবং যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া।এছাড়া সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস এবং ঢাকা জেলা পুলিশের ডিবি (উত্তর) বিভাগের সাবেক পরিদর্শক আরাফাত হোসেন।আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে সাবেক উপপরিদর্শক শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি মামলায় অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণের পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রসিকিউশন উপস্থাপন করতে পারেনি। অভিযোগ গুরুতর হলেও সেগুলোর মাত্রা যথাযথভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় কয়েকজনের সাজা কমানো হয়েছে। অনেকের দায় এসেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরিচালিত অভিযানে সহায়তার কারণে।এই মামলায় মোট আসামি ১৬ জন। তাদের মধ্যে আটজন বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন এবং আটজন পলাতক।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে আশুলিয়া এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং পরে তাদের লাশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন, আস–সাবুর, তানজিল মাহমুদ, বায়েজিদ বোস্তামী ও আবুল হোসেনসহ আরও একজন। আহত অবস্থায় থাকা একজনকেও পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি
