কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে ২০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন সৈয়দ আলী ওরফে সবুজ। কয়েক বছর আগে তিনি সেখানে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে স্থায়ী হয়ে নৈশপ্রহরীর পদে কাজ করছেন। কিন্তু এলাকায় তার পরিচয় একজন প্রভাবশালী কাস্টমস কর্মকর্তার মতো। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার সম্পদের পরিমাণ এখন কোটি কোটি টাকায়।রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থিত জীবন বীমা টাওয়ারের চতুর্থ তলায় কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে প্রথমে মাস্টার রোলে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ শুরু করেন সৈয়দ আলী। বর্তমানে তিনি নৈশপ্রহরী পদে কর্মরত। তবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় প্রবেশ করলেই তার পরিচয় বদলে যায়—সেখানে তিনি পরিচিত একজন বড়মাপের কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে।সরেজমিনে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় গিয়ে জানা যায়, একসময় মাত্র ৮০০ টাকায় ভাড়া করা একটি ছোট কক্ষে বসবাস শুরু করেছিলেন সৈয়দ আলী। কিন্তু বর্তমানে ওই এলাকাতেই তার একাধিক বাড়ি ও জমির মালিকানা রয়েছে। কালু হাজী রোডে রয়েছে দুটি দোতলা বাড়ি, চার কাঠার ওপর নির্মিত একটি পাঁচতলা বাড়ি, ছয় কাঠা জমির ওপর একপাশে একতলা পাকা দালান এবং অপর পাশে ২০ কক্ষের আধা-পাকা টিনশেড ঘর। এছাড়া মিজমিজি দক্ষিণপাড়ার এ ব্লকের ৩৩৫/১ নম্বর হোল্ডিংয়ের তিন কাঠা জমির ওপর সদ্য নির্মিত তিনতলা বাড়িটিও তার বলে এলাকাবাসীর দাবি।এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার রায়েরবাগে তার রয়েছে কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গাউসিয়া এলাকায় প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে পাঁচ কাঠা জমির একটি প্লটও রয়েছে তার দখলে।এসব সম্পদের খোঁজ পেয়ে সাংবাদিকরা সৈয়দ আলীর পাঁচতলা বাড়িতে গেলে পরিচয় জানার পর তার স্ত্রী ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন এবং ফ্ল্যাটে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে বিষয়টি ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন তিনি। সৈয়দ আলীর স্ত্রী দাবি করেন, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। তবে ঋণের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের একাধিকবার অনুরোধও করেন।এদিকে সৈয়দ আলী ফোনে বলেন, এসব সম্পদ তার নয়; তার ভাই ও শ্যালক বিদেশে থাকেন এবং সম্পদগুলো তাদের। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি। বরং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য নানাভাবে অনৈতিক প্রস্তাবের ইঙ্গিত দেন। ফোনে তিনি বলেন, “স্যার আমি আইস্যা আমনের লগে দেহা করমু। আমনের আর কষ্ট করতে হইবে না স্যার, যেহানে কইবেন হেয়ানেই দেহা করমু।”
