পেশায় তিনি একজন উপসহকারী প্রকৌশলী। মাসিক বেতন প্রায় ৪৯ হাজার টাকা। অথচ অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন একরামুল হক।তিনি বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)–এর অধীনে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের নামে প্রায় ২০ কোটি এবং স্ত্রীর নামে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।তাদের নামে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা–তে ৯.৯০ শতাংশের একটি প্লট রয়েছে। এলাকাটিতে প্রতি শতাংশ জমির বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা হিসেবে প্লটটির আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা।নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদরে নিজের নামে মোট পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল হক। চওড়া হাঁস মৌজায় মুক্তির পুকুরপাড় পেয়ারাতলায় প্রায় ৪.৯১ শতাংশ জমির ওপর ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এছাড়া ঢাকা ঝালুপাড়া মৌজায় তার নামে প্রায় ৬৬ শতাংশ জমি রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। একই এলাকায় ১.২৩ শতাংশ জমিসহ একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি, যার মূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা।এছাড়া ৪৪.১৬ শতাংশের দুটি জমির মূল্য যথাক্রমে প্রায় ৬০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা–তে নিজের ও স্ত্রীর নামে আরও পাঁচটি জমি রয়েছে। বারুইপাড়া ইউনিয়নে প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে পানের বরজ করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।এছাড়া পোড়াদহ হাজরাহাট বাজার–এ তার একটি দোতলা বাড়ি ও চারটি দোকান রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। হাজরাহাট মৌজায় প্রায় ১২৫.১৭ শতাংশ জমিতে তামাক ক্ষেত করেছেন, যার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। একই এলাকায় আরও ২২৫.১৭ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা এবং ২৯৭ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।ব্যাংক হিসাবের তথ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রীর নামে Dutch-Bangla Bank Limited, Sonali Bank Limited এবং Agrani Bank Limited–সহ বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক হিসাব রয়েছে। এসব হিসাবে প্রায় ২০ লাখ টাকার তথ্য পাওয়া গেছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে একরামুল হক বলেন, তার সামান্য কিছু সম্পত্তি আছে, বাকি যা আছে তা তার ভাইয়ের। তার দাবি, ভাই ভুলক্রমে তার নামে অনলাইনে ডকুমেন্ট করে রেখেছেন।
