ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, হোসেন মো. শামসুজ্জামান ওরফে “মেজর জামান/র্যাব জামান” দীর্ঘদিন ধরে ভু’য়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে জড়িত। তিনি কখনো নিজেকে সেনাবাহিনী, কখনো পুলিশ কিংবা র্যাবের প্রভাবশালী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া, সাপ্লাই কার্যক্রম নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, তৎকালীন সরকারের আমলে তিনি সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ–এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার দাবি করতেন। একই সঙ্গে সাবেক ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ (ডিবি হারুন) ও ডিসি বিপ্লব কুমার সাহা–এর নামও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। তাদের ভাষ্যমতে, নারী, মদ ও ঘুষ–সংক্রান্ত অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাবশালী মহলকে তুষ্ট করে অবৈধ সুবিধা আদায় এবং নারীদের ব্ল্যাকমেইল করে আর্থিক ফায়দা লুটতেন তিনি—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও বিচারিক যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি।এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডারবাজি ও ভু’য়া প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তিনি ঢাকার হাতিরপুল এলাকার ‘শেল্টেক খেয়া’ আবাসিক প্রকল্পে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। জনগণের অর্থে বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যার অধিকাংশই আর্থিক প্রতারণা, ভু’য়া পরিচয় ব্যবহার ও ক্ষমতার অপব্যবহার–সংক্রান্ত। সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা বর্তমানে নিউমার্কেট অধীন পরিদর্শক তদন্ত কমিটির কাছে চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে।ভুক্তভোগীরা আরও দাবি করেছেন, বিভিন্ন সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত তার লাইসেন্সসমূহ—Zaman Traders,Zaman Builders,Zaman Securities and Supplier,Zaman Nirman Construction—অবিলম্বে স্থগিত বা বাতিল করে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত পরিচালনা করা হোক। অভিযোগ রয়েছে, তথাকথিতভাবে Inter-Services Public Relations (আইএসপিআর)–এর নাম ব্যবহার করে ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে।নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমিটির সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন খান, বিপি (৭৮০৪০৯৯১৫০) এ ঘটনার তদন্ত করছেন বলে জানা গেছে। তবে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে তার কাছে কঠোরভাবে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা আত্মসাৎকৃত জনগণের অর্থ উদ্ধার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
