মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সরকার। এ প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় একটি জরুরি পর্যালোচনা সভা আয়োজন করে এবং নাগরিকদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে।বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে দেশে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে। তবে পবিত্র রমজানে জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।সভায় ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো, এসি ব্যবহারে সংযম দেখানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।জ্বালানি পাচার ও কালোবাজারি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বাড়তি নজরদারির কথাও বলা হয়েছে।এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন–এর চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে ১৪ দিনের ডিজেল, ২৮ দিনের অকটেন, ১৫ দিনের পেট্রোল, ৯৩ দিনের ফার্নেস অয়েল এবং ৫৫ দিনের জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত এক লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল সংরক্ষিত আছে।তিনি আরও জানান, বিকল্প বাজার থেকে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাতটি জাহাজের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান মজুত বিবেচনায় তাৎক্ষণিক মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা নেই বলেও নিশ্চিত করা হয়।
