গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীর রাস্তায় বের হলেই ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। অটোরিকশায় এসে চাপাতি ও সামুরাই দিয়ে কুপিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে। রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর ও সবুজবাগ এলাকায় সক্রিয় এই চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাব।র্যাব জানায়, গত বছর সংঘটিত দুটি দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে চক্রটির মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে চক্রের সদস্যরা একেক সময় একেক বস্তিতে আত্মগোপন করত।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সকাল ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ায় সুজন ও মাহবুব নামে দুই যুবক অটোরিকশায় করে বাসা থেকে বের হন। কিছুদূর যাওয়ার পর আরেকটি অটোরিকশায় আসা দুই ছিনতাইকারী চাপাতি ঠেকিয়ে তাদের গতিরোধ করে। মুহূর্তেই সঙ্গে থাকা সবকিছু ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নগরজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।র্যাবের ছায়া তদন্তে জানা যায়, একই কায়দায় গত ২৪ অক্টোবর মালিবাগের প্রথম লেনেও একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে ছিনতাইকারীরা।শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর মালিবাগের ঘটনায় কাঙালি সুজন ও সাইফুল নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জানা যায়, চক্রটির মূলহোতা সুজন শিকদার। দেড় মাসের চেষ্টায় অবশেষে হাতিরঝিল এলাকার একটি রিকশার গ্যারেজ থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ সময় তার সহযোগী রুবেলকেও আটক করা হয়।র্যাব জানায়, প্রতিটি ছিনতাইয়ে অটোরিকশা চালক ও সহযোগী পরিবর্তন করে মিশনে নামত সুজন। গ্রেফতার এড়াতে নিয়মিত অবস্থান বদল করত তারা। সুজন শিকদারের নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ছিনতাই ও মাদকসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী রুবেলের বিরুদ্ধে ৭টি এবং কাঙালি সুজনের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে। চক্রের আরও সদস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।র্যাব-৩ এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাইদুর রহমান সময় সংবাদকে জানান, চক্রটির সদস্যরা নিয়মিত মাদক সেবন করত। ফলে তারা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকতে পারত এবং নির্দিষ্ট টার্গেট অনুযায়ী অপরাধ করত। বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে পারলেই দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেত তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই তারা সটকে পড়ত।
