কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোঃ মনিরুল ইসলাম, যিনি এম ইসলাম ফাউন্ডেশনের কথিত চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে অবৈধ নির্মাণ ও অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি সাইফুজ্জামানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। জানা গেছে, তিনি পূর্বে ‘প্যারাডাইস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন এবং গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কালো তালিকাভুক্ত।অভিযোগ অনুযায়ী, মোঃ মনিরুল ইসলাম ঢাকার শান্তিনগর, রাজারবাগ, কাকরাইল ও খিলগাঁও এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ছাড়া একাধিক ভবন ও ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি, সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে এবং সাইফুর রহমান চৌধুরীর সহযোগিতায় তিনি হাজার কোটি টাকা বিদেশে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, দুদক ও আয়কর বিভাগ সঠিকভাবে তদন্ত করলে প্রয়োজনীয় নথি, ছবি ও ভিডিও প্রমাণ পাওয়া সম্ভব।বর্তমানে তিনি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে ‘জিয়া ভিলা’ প্রকল্পের ফ্ল্যাট বিক্রির প্রচারণা চালাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নাজিবুদ্দিন রোডের ঐতিহ্যবাহী হাসিনা মঞ্জিলের পেছনের মাত্র ছয় ফুট প্রশস্ত রাস্তা ব্যবহার করে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নিম্নোক্ত ছবির পিছনে জিয়া ভিলা অবস্থিত। প্রকল্পের সঙ্গে হাসিনা মঞ্জিলের পৈত্রিক সম্পত্তির কোনো বৈধ সম্পর্ক নেই।রাজউক ইতোমধ্যে তিন দফা অভিযান চালিয়ে ‘জিয়া ভিলা’ ভবন আংশিকভাবে ভেঙে দিলেও অভিযোগ রয়েছে—রাজউকের নকশা জাল করে চারতলা অনুমোদনের স্থলে দশতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি ভুয়া চিঠি ও জাল নকশা হাইকোর্টে উপস্থাপন করে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও নির্মাণ কাজ চলমান।পিবিআই-এর সাব-ইন্সপেক্টর এসআই আফতাব এই মামলাটি তদন্ত করছেন। সচেতন মহল মনে করছে, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও অবৈধ নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করতে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
