পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মিসেস শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পিরোজপুর সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম তাঁর মালিকানাধীন ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড, ইফতি এন্টারপ্রাইজ ও সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দোকানসহ ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়, কোম্পানির শেয়ার, বিনিয়োগ ও ৯টি গাড়িসহ ৫০ কোটি ৬১ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। পারিবারিক ব্যয়সহ তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।অন্যদিকে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস মাত্র ১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ফলে অর্জিত ও জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ৯৯ কোটি টাকার সম্পদ গোপন রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, মিরাজুল ইসলাম সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে ৯টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা অবৈধভাবে জমা ও স্থানান্তর করেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।অপরদিকে তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজের নামে এলজিইডির ঠিকাদার হিসেবে প্রকল্পের কাজ না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। তিনি প্রায় ২৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ভোগদখলে রাখেন এবং ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাব থেকে ১২২ কোটি টাকার বেশি অর্থ সন্দেহজনকভাবে স্থানান্তর ও হস্তান্তর করেন।দুদক জানিয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
